১৯৬৭ সালের জুনে সংঘটিত আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ বা ‘ছয় দিনের যুদ্ধ’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র অনেকখানি বদলে দিয়েছিল। ওই বছর ৫ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত লড়াইয়ে ইসরায়েলি বাহিনী মিসর, জর্ডান ও সিরিয়াকে পরাজিত করে এবং মিসরের সিনাই উপদ্বীপ, গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং সিরিয়ার গোলান হাইটস দখল করে নেয়।
সিনাই ও গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েল সরে গেলেও গোলান হাইটস এবং পূর্ব জেরুজালেম এখনো দখলে রেখেছে। আর জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরেও ইহুদি রাষ্ট্রটি বসতি স্থাপন করেছে।
কয়েক সপ্তাহব্যাপী উত্তেজনার জেরে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ বেধে যায়। ১৯৬৭ সালের ৫ জুন ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে মিসরীয় বিমানবাহিনীর ৯০ শতাংশ ধ্বংস করে দেয়। এরপর ইসরায়েলি সাঁজোয়া যান মিসরে ঢুকে পড়ে। তখন আরব দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তারা জেরুজালেম লক্ষ্য করে গোলা ছুড়তে শুরু করে।
৬ জুন ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গাজার পতন হয়। তখন ওই উপত্যকা মিসরের শাসনে ছিল। ইসরায়েলি বাহিনী সিনাই উপদ্বীপের দিকে অগ্রসর হয় এবং জেরুজালেমের আরব অংশে প্রবেশ করে। যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে একটি অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করে।
৭ জুন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সুয়েজ খালের পূর্ব তীর দখল করে। এ ছাড়া তাদের নৌবাহিনী শারম আল-শেখ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে প্রবেশ করে। ইসরায়েলি বাহিনী বেথলেহেম এবং জেরিকো শহরসহ জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয়। ৮ জুন ইসরায়েলি সেনারা সুয়েজ খালের তীরে পৌঁছায়। এটা ছিল সিনাই দখলের লড়াই অবসানের সংকেত। তখন মিসরীয় বেতার ঘোষণা দেয়, কায়রো জাতিসংঘের অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করছে।
৯ জুন ইসরায়েলিরা সুরক্ষিত গোলান হাইটসে অভিযান শুরু করে। এক দিনের প্রচণ্ড লড়াই শেষে তারা সিরীয় বাহিনীকে হটিয়ে গোলান মালভূমি দখল করে নেয়। ওই দিন মিসরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদুল নাসের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিন ঘণ্টা পরই তিনি অবস্থান পাল্টে জানান, গণদাবির মুখে প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকছেন। ইসরায়েল অস্ত্রবিরতি মেনে নেয়। ১০ জুন শনিবার সিরিয়া-ইসরায়েল সম্মুখযুদ্ধ জোরদার হয়। সিরিয়াকে হটাতে ইসরায়েল তাদের পুরো সামরিক শক্তি কাজে লাগায়। সিরিয়ার কুনেইত্রা শহরের পতনের পরও ইসরায়েলিরা এগিয়ে যেতে থাকে।
এই ছয় দিনের যুদ্ধে নাসেরের সামর্থ্য নিয়ে আরব দেশগুলোয় চালু থাকা উচ্চ ধারণার পরিবর্তন হয়। কারণ, তুলনামূলকভাবে নতুন রাষ্ট্র ইসরায়েল এই অল্প সময়ে তিনটি আরব দেশের সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তী সময়ে সুয়েজ খাল, জর্ডান নদী এবং গোলান হাইটস ধরে এ অঞ্চলের সীমানা নির্ধারণ করা হয়।